চাকরীর প্রস্তুতি নিতে চান? তাহলে এই ১০ টি টিপস আপনাকে অবশ্যই সাহয্য করবে


চাকরীর প্রস্তুতি নিতে চান? তাহলে এই ১০ টি টিপস আপনাকে অবশ্যই সাহয্য করবে [ 10 Golden Tips For Job Preparation] :


হ্যালো রিডার,

প্রায় সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী রা গ্রাজুয়েশন পাশ করার পর চাকরীর পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। তবে সবাই কে বলব, সরকারি চাকরী যদি আপনার লক্ষ্য হয়, তবে আঠেরো বছর পেরিয়ে গেলে, চাকরীর পরীক্ষা সম্পর্কে একটু একটু জানতে শুরু করুন। আমি এটা বলব না, ক্লাসের পড়া বাদ দিয়ে চাকরীর জন্যে পড়ুন। কিন্তু অল্প অল্প করে চাকরীর পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে শুরু করুন। কারন, একাডেমিক পড়াশুনা আর চাকরীর পড়াশুনার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।পরীক্ষার্থীরা প্রথম ভুল যেটি করে, সেটি হল চাকরী পরীক্ষার প্রস্তুতি কে অনেক সহজ বলে মনে করা। কিন্তু, চাকরীর পরীক্ষার প্রস্তুতি, একাডেমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির থেকে অনেকগুন কঠিন। প্রতি বছর লাখ-লাখ পরীক্ষার্থীরা সারা দেশ জুড়ে চাকরীর পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। চাকরীর পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির পাশাপাশি মূল্যায়নের দরকার হয়। পরীক্ষার্থীর অনেকরকম স্কিলের প্রয়োজন হয়, চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করতে গেলে। এখানে সবথেকে সেরা ১০ টি টিপস দেওয়া হল, যেটি আপনাকে চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করতে সাহয্য করবে।

চাকরীর প্রস্তুতি


চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করতে সেরা ১০ টি টিপস [ Competitive Exam Preparation]: 



১। পরীক্ষা সম্পর্কে জানুন : অনেকেই ভুল করে বসে, যে তারা পরীক্ষা সম্পর্কে সঠিক ধারনা রাখে না। প্রত্যেক চাকরীর পরীক্ষার আলাদা আলাদা প্যাটার্ন বা, ধরন আছে। চাকরীর ধরন অনুযায়ী তারা এরকম পরীক্ষার প্যাটার্ন ও সিলেবাস তৈরী করে। তাই প্রস্তুতি শুরুর আগে, আপনি যে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন, তার প্যাটার্ন ও সিলেবাস সম্পর্কে সম্পর্নু ধারনা নিয়ে রাখুন। এটা শুধু আপনাকে, পরীক্ষা সম্পর্কে বুঝতে সাহয্য করবে না, আরও মোটিভেট করবে আপনার প্রস্তুতির সময়।

২। প্রয়োজনীয় দক্ষতার বিকাশ করুন : যেহেতু উপরের প্যারাগ্রাফে বলা হল, প্রত্যের চাকরীর পরীক্ষার ধরন আলাদা। তাই যখন পরীক্ষা সম্পর্কে ধারনা নেবেন, তখনি চিহ্নিত করুন, কোন স্কিল বা দক্ষতা দরকার, ওই চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করতে গেলে। এবং নিজে নিজে ভাবুন, আপনার মধ্যে সেই স্কিল টি আছে কিনা! যদি না থাকে, তবে সেই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন। প্রস্তুতি শুরুর আগে দক্ষতা অর্জন, আপনাকে চাকরীর পরীক্ষায় ভালো ফল করতে সাহয্য করবে ।

৩। পরীক্ষার প্রস্তুতির স্ট্রাটেজি তৈরী করুন : চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করার জন্য, কোনো প্রমানিত অথবা, অভিন্ন কৌশল নেই। একজন প্রার্থী চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নিজের দক্ষতা ও মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে সে নিজে নিজের তারা প্রস্তুর স্ট্রাটেজি তৈরী করতে পারে। তাই পরীক্ষার সিলেবাস ও নিজের দক্ষতা অনুযায়ী একটা পড়াশুনার টাইম টেবল তৈরী করুন।

৪। কিভাবে প্রস্তুতি নেবেন,সেটা জানুন : প্রায় প্রতিটি চাকরীর পরীক্ষার আলাদা সিলেবাস ও প্যাটার্ন হয়ে থাকে। এই গুলোর উপর ভিত্তি করে এক পরীক্ষার্থী তার প্রস্তুতি শুরু করে। তাই বলব, প্রস্তুতি শুরুর সময়, যে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন, তার বিগত বছরের প্রশ্নগুলি বার বার দেখুন। এটা আপনাকে অনেক সাহয্য করবে।




৫। প্রতিটি বিষয় পৃথক ভাবে এক্সপ্লোর করুন বা পড়ুন : একবার আপনি আপনার চকরীর পরীক্ষা প্রস্তুতির স্ট্রাটেজি, টাইমটেবল তৈরী ফেললে, আমি সাজেস্ট করব, প্রতিটি বিষয়ের, চ্যাপটারের বেসিক কনসেপ্টস গুলো ভালো করে পড়ুন। সবসময় চেষ্টা করুন, পর পর চ্যাপটার হিসাবে পড়ার। কারন বিষয় অনুযায়ী, চ্যাপটার হিসেবে পড়াশুনা আপনাকে ওই বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা দেবে এবং কম সময়ের ভেতর প্রশ্নের উত্তর ও তৈরী করে ফেলতে পারবেন।

৬। যতার্থ উত্তর ও হাতের গতির উন্নতি করুন : সমস্ত চাকরীর পরীক্ষা নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। তাই প্রশ্নের দ্রুতো উত্তর করা খুবই গুরুত্বপুর্ন চাকরীর পরীক্ষার ক্ষেত্রে। তবে অবশ্যই যতার্থ বা, সঠিক উত্তর করবেন। কারন, অনেক পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং থাকে। যখন কোনো প্রাকটিস সেট ধরে প্রস্তুতি নেবেন, তখন অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। আর এটি করা একমাত্র সম্ভব, নিয়মিত প্রাকটিস করলে।

৭। নিজের পরিমানগত দক্ষতা ( Quantitative Aptitude) কে শক্তিশালী করুন : চাকরীর পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার যাচাই করা হয়, যেটা একাডেমিক পরীক্ষায় করা হয় না। আর এই দক্ষতা একমাত্র অর্জন করা যায় নিয়মিত প্রাকটিসের মধ্যে। একজনের উচিত প্রাকটিসে তার সেরা টা দেওয়া, কারন প্রাকটিস একমাত্র পরীক্ষার্থী কে আরও ভাল দক্ষ করে তুলতে পারে। চাকরীর পরীক্ষায় অ্যাপ্টিটিউড সেকশনের ভেতর মূলত বেসিক অঙ্ক এবং রিজনিং প্রাকটিস করতে হয়।

৮। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স : এমন কোনও  পরীক্ষা নেই   যেটি তে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের [Current Affairs]উপর থেকে প্রশ্ন আসে না। এই বিষয়ের দক্ষ হওয়ার সবথেকে ভালো উপায় হল, প্রতিদিন নিউজ পেপার পড়া এবং তার থেকে গুরুত্বপুর্ন পুর্ন গুলো নোট করে রাখার। পরীক্ষার্থীদের উচিত, এই বিষয়ের প্রস্তুতির মাধ্যমে তাদের জেনারেল নলেজ কে বাড়ানো।

সপ্তাহিক বাংলা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডাউনলোড : ক্লিক করুন

৯। ভাষা স্কিল বাড়ানো : বেশিরভাগ সর্বভারতীয় চাকরীর পরীক্ষা বাংলার স্টুডেন্টস দের যেহেতু, ইংরাজী ভাষায় দিতে হয়, তাই ইংরাজী ভাষা সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ান। আপনি চাইলে, হিন্দি তে ও দিতে পারেন। ভাষা দক্ষতা চাকরীর পরীক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপুর্ন। সম্ভব হলে, ইংরাজী নিউজ পেপার পড়ুন। ইংরাজী গ্রামার ও ভোকাবুলারি সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ান।

১০। নিজেকে অনুপ্রানিত করুন : এটি অবশ্য সত্য, সরকারি চাকরীর পরীক্ষায় সফলতার আনুপাতিক হার অনেক কম। তাই এখানে হয়তো আপনাকে, ডিপ্রেশন বা, মানসিক দুশ্চিন্তার কারন হতে পারে। এটিকে এড়ানোর সবথেকে সহজ উপায় পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আপনার বিকল্প পথ খোলা রাখুন ও মন কে শান্ত রাখুন। নিজেকে সব সময় অনুপ্রানিত করুন, যে আপনিও পারবেন।

বি:দ্র : পোস্ট যদি উপকারী মনে হয়, প্লীজ, নিজের বন্ধুদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে প্রচুর প্রচুর শেয়ার করুন। অন্যকে সাহয্য করাও আপনার দায়িত্ব। তাই বাংলার সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিন।

No comments